পিঙ্গুইস থেকে যেভাবে হলো পেঙ্গুইন
পেঙ্গুইন শব্দটি এসেছে মূলত ল্যাটিন শব্দ পিঙ্গুইস থেকে। ল্যাটিন ভাষায় পিঙ্গুইস শব্দের মানে চর্বিযুক্ত শরীর। সেই থেকে ক্রমশ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে হয়েছে পেঙ্গুইন। তবে এখনো উত্তরের অনেক অঞ্চলে পেঙ্গুইনকে পিঙ্গুইস নামে ডাকা হয়। বয়ঃসন্ধিকালের সময়টায় পেঙ্গুইনের শরীরকে আবৃত করে রাখা লোম খসে যেতে থাকে। মূলত বছরের ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসের সময় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে রোজ সমুদ্রে পেঙ্গুইনদের দুইটি শক্তিশালী কলোনি রয়েছে। এছাড়াও কেপ অ্যাডরে এবং কেপ ক্রুজারে প্রায় চার লাখ ষাট হাজার জোড়া পেঙ্গুইনের বসবাস।
পৃথিবীর একেবারে উত্তর এবং দক্ষিণ প্রান্তের এন্টার্কটিকা মহাদেশে হিমশীতল বরফের মাঝে বসবাস নিঃসঙ্গ পাখি পেঙ্গুইনের। বরফাকীর্ণ সৈকত আর সমুদ্র নিয়েই এদের বসবাস এবং এই সমুদ্রই তাদের খাবারের অন্যতম উৎস। প্রজননের সময় পেঙ্গুইনেরা একাকী অনেকটা দূরবর্তী কোনো বরফ খণ্ডের নিচে চলে যায় এবং সেখানেই বরফ আর পানির মাঝে জন্ম হয় পেঙ্গুইনের। যদিও জন্মের কিছুদিন পরেই গোটা পেঙ্গুইন ঝাঁকের সঙ্গে মিশে যায় সদ্যজাত পেঙ্গুইন।
অ্যাডেলি পেঙ্গুইনদের জীবনের অধিকাংশ সময়ই কাটে বরফাকীর্ণ সমুদ্রে। তবে অনেক পেঙ্গুইনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা প্রজননের ওই সময়ে পাথুরে কোনো সৈকত বা ঢালও বেছে নেয়। প্রজননের পর অ্যাডেলিরা আবার সেই সমুদ্রেই ফিরে আসে এবং শীতের শুরু হওয়ার আগেই খাদ্যের নতুন উৎস সন্ধানে দলবেধে যাত্রা শুরু করে তারা।
সাতারু হিসেবে অ্যাডেলি পেঙ্গুইনদের জুড়ি নেই। পেছনে থাকা জোড়া পা এদের সাতারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ অনেক সময় ডাঙ্গায় হেটে বেড়াতে হয়, আর তখন পেছনের ওই দুটি পাখনাসদৃশ পাকে ব্যবহার করে পেঙ্গুইনেরা। অবশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা বুকে হেটে চলে। কিন্তু বরফের উপর দিয়ে হাটার সময় কিন্তু পেঙ্গুইনেরা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যময়, তখন বুকে ভর দিয়ে হাটতে হয় না।
আর পানির নিচে ডুবে থাকার এক আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে অ্যাডেলি পেঙ্গুইনের। প্রায় ৬৫ ফুট পানির নিচে অনায়াসে শিকারের উদ্দেশ্যে সাত মিনিটের বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। দ্রুত সাতরে খুব সহজেই তারা স্কুইড আর ছোটো ছোটো মাছ শিকার করে খাবারের জন্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অন্যান্য অনেক প্রাণীর মতো পেঙ্গুইন তার শিকারকে ডাঙ্গায় তুলে হত্যা করে না, পানির নিচে থাকতেই হত্যা করে ফেলে। দলবেধে শিকার করার জন্য প্রতিবার পেঙ্গুইনেরা সময় নেয় তিন থেকে চার ঘণ্টা। যদিও অ্যাডেলিরা রাতের বেলায় শিকারে যায় কারণ রাতের বেলা স্কুইড জাতীয় সামুদ্রিক প্রাণীরা সমুদ্রের উপরিতলে চলে আসে।
এবার বলা যাক অ্যাডেলি পেঙ্গুইনদের চারিত্রিক বিভিন্ন দিক দিয়ে। পেঙ্গুইনদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই তাদের সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত। প্রতিবছর ভ্রমণ শেষে তারা সঙ্গীর কাছেই ফিরে আসে এবং সেসময় তাদের বেশ অভ্যর্থনা দেয়া হয়। মুখোমুখি দাড়িয়ে মাথা উপরে নিচে ঝাকিয়ে আকাশের দিকে তাকায় অভ্যর্থনাকারী পেঙ্গুইনের দল। এসময় তারা এক ধরনের শব্দ উচ্চারণ করে এবং এই শব্দই প্রমাণ করে যে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক অটুট আছে। পেঙ্গুইন দম্পতি তাদের মধ্যকার দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়, যাতে দলের তরুণ পেঙ্গুইনেরা বিনা বাধায় ডিম ফোটাতে পারে। আর দায়িত্ব হিসেবে অনেক পেঙ্গুইন টানা ২২ দিনও সমুদ্রে কাটিয়ে দেয় পরবর্তী সময়ের জন্য খাবার সংগ্রহের তাগিদ থেকে।
বছরের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ পেঙ্গুইনেরা তাদের প্রজনন ক্ষেত্রে ফিরে আসে। প্রত্যেক জোড়া নিজেদের বাসা খুঁজে নেয় এবং প্রজননের জন্য যে রীতি রয়েছে তা পালন করে। সন্তান হবার পর বাবা-মায়ের মধ্যে একজন সর্বদা সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষন করলে অপরজন খাবার সংগ্রহে যায়। এভাবেই পালা করে তারা সন্তানদের দেখভাল করে। অবশ্য পেঙ্গুইন সন্তানদের দেখভাল শুরু তাদের জন্ম দেয়া বাবা-মাই করেন না, পাশাপাশি গোটা কলোনির সদস্যরা শিশুদেরকে নিজেদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে। প্রজননের আট সপ্তাহ পর বাবা-মা ও কলোনির অন্যান্যদের সাথে সাগরে যায় শিশু পেঙ্গুইনেরা।
স্বাভাবিক নিয়মে সমুদ্রে পেঙ্গুইনেরা ঘণ্টায় ৩-৬ মাইল গতিতে ছুটতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনে ১৫ মাইল গতিতেও যেতে দেখা যায় তাদের। গড়ে এক একজন পেঙ্গুইনের ওজন ৭-১৩ পাউন্ডের কাছাকাছি হলেও বছরের বিভিন্ন সময় এই ওজনের তারতম্য হয়। আর উচ্চতায় এরা অধিকাংশই আড়াই ফুটের কাছাকাছি এবং ৫-৮ বছরের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক হয়ে যায়। প্রতিবার দুটি করে ডিম দেয়া পেঙ্গুইনদের ডিম ফুটতে সময় লাগে ৩০-৪৩ দিন। কোনো দূর্ঘটনা না ঘটলে একটি পেঙ্গুইন অনায়াসে ১০ থেকে ১৫ বছর বেঁচে থাকে।
অ্যান্টার্কটিকায় অ্যাডেলির অপর এক প্রজাতির বসবাস। নাম তদের রকহোপার পেঙ্গুইন। তুলনায় এরা অ্যাডেলির থেকে কিছুটা ছোটো এবং অ্যান্টার্কটিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এদের বসবাস। তবে হ্যা, অ্যাডেলির মতো সোজাসাপটা চেহারা নয় রকহোপারদের। ঠোটের পাশে এবং মাথার দুপাশে সোনালী কেশ রয়েছে যা এদের সৌন্দর্য্য কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়। পেঙ্গুইন গোত্রের আরো একটি শাখা রয়েছে যাদের বলা হয় কিং পেঙ্গুইন। এরা মূলত মৎস্য শিকারী এবং দীর্ঘসময় ধরে সাগরে বাস করে।
পেঙ্গুইন নিয়ে আজ আর নয় পাঠক। আগামী পর্বে আপনাদের জন্য থাকছে আফ্রিকান এক দুর্ধর্ষ শিকারী পাখি নিয়ে ফিচার।
ওয়াইল্ডডিজনি
সাতারু হিসেবে অ্যাডেলি পেঙ্গুইনদের জুড়ি নেই। পেছনে থাকা জোড়া পা এদের সাতারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ অনেক সময় ডাঙ্গায় হেটে বেড়াতে হয়, আর তখন পেছনের ওই দুটি পাখনাসদৃশ পাকে ব্যবহার করে পেঙ্গুইনেরা। অবশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা বুকে হেটে চলে। কিন্তু বরফের উপর দিয়ে হাটার সময় কিন্তু পেঙ্গুইনেরা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যময়, তখন বুকে ভর দিয়ে হাটতে হয় না।
আর পানির নিচে ডুবে থাকার এক আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে অ্যাডেলি পেঙ্গুইনের। প্রায় ৬৫ ফুট পানির নিচে অনায়াসে শিকারের উদ্দেশ্যে সাত মিনিটের বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। দ্রুত সাতরে খুব সহজেই তারা স্কুইড আর ছোটো ছোটো মাছ শিকার করে খাবারের জন্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অন্যান্য অনেক প্রাণীর মতো পেঙ্গুইন তার শিকারকে ডাঙ্গায় তুলে হত্যা করে না, পানির নিচে থাকতেই হত্যা করে ফেলে। দলবেধে শিকার করার জন্য প্রতিবার পেঙ্গুইনেরা সময় নেয় তিন থেকে চার ঘণ্টা। যদিও অ্যাডেলিরা রাতের বেলায় শিকারে যায় কারণ রাতের বেলা স্কুইড জাতীয় সামুদ্রিক প্রাণীরা সমুদ্রের উপরিতলে চলে আসে।
এবার বলা যাক অ্যাডেলি পেঙ্গুইনদের চারিত্রিক বিভিন্ন দিক দিয়ে। পেঙ্গুইনদের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই তাদের সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত। প্রতিবছর ভ্রমণ শেষে তারা সঙ্গীর কাছেই ফিরে আসে এবং সেসময় তাদের বেশ অভ্যর্থনা দেয়া হয়। মুখোমুখি দাড়িয়ে মাথা উপরে নিচে ঝাকিয়ে আকাশের দিকে তাকায় অভ্যর্থনাকারী পেঙ্গুইনের দল। এসময় তারা এক ধরনের শব্দ উচ্চারণ করে এবং এই শব্দই প্রমাণ করে যে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক অটুট আছে। পেঙ্গুইন দম্পতি তাদের মধ্যকার দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়, যাতে দলের তরুণ পেঙ্গুইনেরা বিনা বাধায় ডিম ফোটাতে পারে। আর দায়িত্ব হিসেবে অনেক পেঙ্গুইন টানা ২২ দিনও সমুদ্রে কাটিয়ে দেয় পরবর্তী সময়ের জন্য খাবার সংগ্রহের তাগিদ থেকে।
বছরের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ পেঙ্গুইনেরা তাদের প্রজনন ক্ষেত্রে ফিরে আসে। প্রত্যেক জোড়া নিজেদের বাসা খুঁজে নেয় এবং প্রজননের জন্য যে রীতি রয়েছে তা পালন করে। সন্তান হবার পর বাবা-মায়ের মধ্যে একজন সর্বদা সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষন করলে অপরজন খাবার সংগ্রহে যায়। এভাবেই পালা করে তারা সন্তানদের দেখভাল করে। অবশ্য পেঙ্গুইন সন্তানদের দেখভাল শুরু তাদের জন্ম দেয়া বাবা-মাই করেন না, পাশাপাশি গোটা কলোনির সদস্যরা শিশুদেরকে নিজেদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে। প্রজননের আট সপ্তাহ পর বাবা-মা ও কলোনির অন্যান্যদের সাথে সাগরে যায় শিশু পেঙ্গুইনেরা।
স্বাভাবিক নিয়মে সমুদ্রে পেঙ্গুইনেরা ঘণ্টায় ৩-৬ মাইল গতিতে ছুটতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনে ১৫ মাইল গতিতেও যেতে দেখা যায় তাদের। গড়ে এক একজন পেঙ্গুইনের ওজন ৭-১৩ পাউন্ডের কাছাকাছি হলেও বছরের বিভিন্ন সময় এই ওজনের তারতম্য হয়। আর উচ্চতায় এরা অধিকাংশই আড়াই ফুটের কাছাকাছি এবং ৫-৮ বছরের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক হয়ে যায়। প্রতিবার দুটি করে ডিম দেয়া পেঙ্গুইনদের ডিম ফুটতে সময় লাগে ৩০-৪৩ দিন। কোনো দূর্ঘটনা না ঘটলে একটি পেঙ্গুইন অনায়াসে ১০ থেকে ১৫ বছর বেঁচে থাকে।
অ্যান্টার্কটিকায় অ্যাডেলির অপর এক প্রজাতির বসবাস। নাম তদের রকহোপার পেঙ্গুইন। তুলনায় এরা অ্যাডেলির থেকে কিছুটা ছোটো এবং অ্যান্টার্কটিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এদের বসবাস। তবে হ্যা, অ্যাডেলির মতো সোজাসাপটা চেহারা নয় রকহোপারদের। ঠোটের পাশে এবং মাথার দুপাশে সোনালী কেশ রয়েছে যা এদের সৌন্দর্য্য কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়। পেঙ্গুইন গোত্রের আরো একটি শাখা রয়েছে যাদের বলা হয় কিং পেঙ্গুইন। এরা মূলত মৎস্য শিকারী এবং দীর্ঘসময় ধরে সাগরে বাস করে।
পেঙ্গুইন নিয়ে আজ আর নয় পাঠক। আগামী পর্বে আপনাদের জন্য থাকছে আফ্রিকান এক দুর্ধর্ষ শিকারী পাখি নিয়ে ফিচার।
ওয়াইল্ডডিজনি







Comments
Post a Comment