পাখি কি বা কেমন?

সাধারণত পাখি বলতে আমরা এক ধরণের মেরুদণ্ডী প্রাণী বুঝি যার মধ্যে ওই প্রাণীভূক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে। পাখিরা উষ্ণ রক্তের দ্বিপদী প্রাণী যার অঙ্গেই তার বিবর্তনের চিহ্ন হিসেবে পাখা এখনো আছে। পাখা মূলত পালক দ্বারা আবৃত থাকে, আর সেই পালকের নিচে থাকা ভাজ করা দুটি হাড়কে উড়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনে লড়াইয়ের জন্যও ব্যবহার করে পাখিরা। আমরা চারপাশে যত পাখি দেখি তার অধিকাংশই দিবাকালীন সময়ে কর্মক্ষম থাকা পাখি। কিন্তু কিছু আছে যারা নিশাচর, বিকেলের আলো সন্ধ্যার দিকে গড়াতে শুরু করলেই শুরু হয় তাদের আনাগোনা। যেমন পেঁচা।

অনেক পাখিই একটা আদর্শ বাসস্থানের খোঁজে দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়। যদিও এমনও অনেক পাখি আছে যাদের প্রজনন ক্ষেত্র নির্দিষ্ট এবং বছর ঘুরে তারা একই স্থানে সন্তান জন্ম দেয়। পাখিদের ক্ষেত্রে আরো একটা বিশেষ দর্শনীয় ব্যাপার তা হলো, এদের উড়ার ক্ষমতা। এই উড়ার ক্ষমতার উপর বিচার করেও পাখিদের মধ্যে প্রজাতি নির্নয় করা হয়েছে। তবে ব্যাতিক্রম হিসেবে এখানেও বলা যায়, অনেক পাখিই আছে যারা একটি নির্দিষ্ট দ্বীপকে কেন্দ্র করেই বসবাস করে। আবার উড়ার ক্ষমতাই নেই, এমন অনেক প্রাণীকেও পাখি বলা হয়, যেমন পেঙ্গুইন, কিউই।

গাছ, বীজ, কীটপতঙ্গ, মাছ, পঁচা মাছ অথবা অন্যান্য পাখিদেরই খেয়েই বেঁচে থাকে অধিকাংশ পাখি। পৃথিবীজুড়ে প্রতিদিন অসংখ্য পাখি মানুষের খাদ্য হয়ে পেটে চালান হয়ে যাচ্ছে। আর মানুষের খাদ্য হওয়ার কারণে অনেক পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। বিভিন্ন দেশে টার্কি পাখি মানুষের লোভনীয় খাবারের তালিকায় শোভা পায়, অথচ এই তার্কিশ টার্কি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। শুধু কি তাই, হাস খাবার প্রবনতার কারণে এখন অনেক হাসের বিচিত্র প্রজাতি হারিয়ে গেছে, যা আছে তার মধ্যে অনেক হাইব্রিড প্রজাতির।

বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এমন অনেক পাখি রয়েছে যাদের জীবনচক্র নির্ভর করছে আজ মানুষের উপর। উদাহরণ হিসেবে পায়রা বা কবুতরের কথা বলা যায়। সেই প্রাচীনকাল থেকে মানুষের সাথে পায়রার সখ্যতার নানান কাহিনী শোনা যায়। বর্তমানেও মানুষের খুব কাছাকাছি থাকা পাখিদের মধ্যে পায়রা অন্যতম। উত্তর আমেরিকার দিকে চড়ুই, স্টার্লিং ফিঞ্চ পাখিদের দেখা যায়। এর বাইরে আছে বাজপাখিদের কথা। বাজপাখিরা পোষ মানলে শুধু মানুষের সাথেই সহাবস্থান করে না, মানুষের নির্দেশ অনুযায়ী কাজও করে। এখনও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে পোশ মানানো বাজপাখি দেখা যায়, যারা তাদের প্রভুদের হয়ে দূর দূরান্তে চিঠি পৌছে দিচ্ছে নির্ভূলভাবে।
বিশ্বব্যাপী আজ অন্যান্য অনেক প্রাণীর মতো পাখিরাও বিপদের মুখে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফির এক আলোকচিত্রীর তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, সৈকতে মৃত একটি পাখির কঙ্কাল পড়ে আছে এবং সেই কঙ্কালের মাঝে বিভিন্ন সব প্লাস্টিক সামগ্রী। মানুষের যেমন খাদ্যচক্র ভেঙ্গে গেছে, মানুষের শরীর অনেক বেশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, তেমনি পাখিরাও অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। শুধু মানুষ তা প্রত্যক্ষ অনুভূতি দিয়ে পাখিদের উপলব্ধি বুঝতে পারে না, পারলে হয়তো পাখিদের কান্নায় রাত্রিবেলা মানুষের ঘুম আসতো না।

ওয়ার্ল্ডওয়াচ ইনস্টিটিউটের এক পরিসংখ্যান মতে, পাখিদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। আগামী শতকে ১২০০ প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির হুমকির মুখে আছে। পাখিদের বিলুপ্ত হয়ে যাবার পেছনের কারণে হিসেবে মানুষ যতই জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে অন্যান্য দাবি করে থাকুক না কেন, গবেষকদের গবেষণা বলছে, পাখিদের বিলুপ্তির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ মানুষ। কারণ, মানুষ তার নিজের স্বার্থ এবং ভোগের জন্য প্রকৃতিকে শত্রু বানিয়ে দিয়েছে এবং প্রকৃতির নিজস্ব বাস্তুশৃঙ্খল নষ্ট করে দিয়েছে মানুষ। তবু, গবেষকরা এও বলছেন, এখনো যদি পৃথিবীর মানুষ চায় তবে বর্তমানে থাকা পাখিরাই শুধু বাঁচতে পারবে তাই নয়, আরো নতুন প্রজাতি বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ওয়াইল্ডডিজনি

Comments